আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

জাতিসংঘের আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

গণহত্যার হাত থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে আসছেন। ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চালানো গণহত্যার বিচার শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত (আইসিজে)। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতের শুনানিতে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাউদা জালো বলেছেন, মিয়ানমার গণহত্যার মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল।

গতকাল সোমবার ঐতিহাসিক এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হয়। এর আগে, ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করে।

গতকাল শুরু হওয়া শুনানিতে জালো বলেন, গাম্বিয়া ‘একটি দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর সবচেয়ে নৃশংস ও জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছে’। রোহিঙ্গারা কয়েক দশক ধরে ভয়াবহ নির্যাতন এবং অমানবিক প্রচারণার শিকার হয়েছেন। এর ফলে সামরিক অভিযান এবং গণহত্যার মাধ্যমে মিয়ানমারে তাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা হয়েছে।

জালো আরো বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার লক্ষ্যেই অভিযান চালিয়েছে। তাদের ধ্বংসের লক্ষ্যেই নৃশংস হামলা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিচারিক আদলতে মামলার বিষয়ে জালো বলেন, সামরিক সরকারের সঙ্গে তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তার দেশ ‘দায়িত্ববোধ’ থেকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে শুরু হওয়া এই বিচার টানা তিন সপ্তাহ চলবে। শুনানির সময় গাম্বিয়ার অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে, যা মাসের শেষ পর্যন্ত চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আদালত রোহিঙ্গাদেরসহ সাক্ষীদের কাছ থেকে শুনানির জন্য তিন দিন নির্ধারণ করেছে। তবে এই অধিবেশনগুলি জনসাধারণ এবং মিডিয়ার জন্য বন্ধ থাকবে।

যদিও আইসিজেতে গণহত্যার মতো সর্বোচ্চ গুরুতর অপরাধের জন্য ব্যক্তিদের বিচার করতে পারে না, তবুও জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এর মতামত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *