সর্বশেষসারাদেশ

চট্টগ্রামে ৩ বছরের শিশুটিকে অন্ধকার গোডাউনে নিয়ে ধর্ষণ

মফস্বল ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

২২ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ শ্রমজীবী ওই এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরটা ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। তিন বছরের শিশুটি তখন তার নানির ঘরে ঘুমাচ্ছিল। মা–বাবা দুজনেই কাজে ছিলেন—মা পোশাক কারখানায়, বাবা অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায়। বাড়ির আশপাশের মানুষজনের কাছে পরিবারটি ভীষণ পরিচিত—দরিদ্র হলেও পরিশ্রমী, শান্ত, নিজের মতো জীবনযাপন করা পরিবার। এমন একটা পরিবারের তিন বছরের ওই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

অভিযুক্ত মো. মনিরের বাড়ি কুমিল্লা। পেশায় তিনি ডেকোরেশনের কাজ করেন। বাকলিয়া চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। মনিরের স্ত্রী আছেন, দুটি ছোট মেয়ে রয়েছে—তবু একই মহল্লার একটি শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা দেখিয়ে স্তব্ধ করে দিয়েছেন সবাইকে।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে শিশুটির মা, একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক, প্রতিদিনের মতোই কাজে ছিলেন। বাবা অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন ভোরে। শিশুটি নানির ঘরে স্বাভাবিকভাবেই ঘুমাচ্ছিল। এলাকার লোকজন বলেন, শিশুটি খুব চঞ্চল নয়—বেশির ভাগ সময় নানির সঙ্গেই থাকে।

নানি তখন পাশের রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু নাতনির রক্ষা হয়নি । পরিবারের ধারণা, মনির আগেই শিশুটিকে দেখে রেখেছিল। প্রতিবেশীরা জানায়, মনির প্রায়ই ওই বাড়িতে যাতায়াত করত, আশপাশের মানুষদের সঙ্গে তার সম্পর্কও খারাপ ছিল না। এই ‘পরিচিত মানুষ’–এর কাছেই হার মানে শিশুটির নিরাপত্তা।

প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে মনির শিশুটিকে খেলার কথা বলে ডেকে নেয়। নানি ভেবেছিলেন শিশুটি বাইরে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলছে। কিন্তু মনির তাকে নিয়ে যায় পাশের ডেকোরেশনের গোডাউনে—যা দিনের বেলায় সুনসান ও ফাঁকা থাকে।

গোডাউনটি সাধারণত বিয়ের সাজসজ্জার সামগ্রী রাখার জায়গা। দিনের বেলা তা তালা ছাড়া থাকে। পুলিশ বলছে, নির্জনতা নিশ্চিত করেই মনির সেখানে শিশুটিকে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। পরিবারের অভিযোগ, ওঠার পর শিশুটি তীব্র ব্যথায় কাঁদতে থাকে। তখনই নানি ছুটে গিয়ে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীরা জড়ো হন। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা–বাবা।

হাসপাতালে শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মেয়ে তো ঘুমাচ্ছিল। ওকে রেখে আমরা কাজে ছিলাম। কীভাবে এমন হলো… ভাবলেও গা শিউরে ওঠে।’

বাবা বলেন, ‘আমরা গরিব বলে কি আমাদের মেয়ের জীবন এত সস্তা? ও আমাদের একমাত্র আশা।’

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মনির স্বাভাবিক আচরণ করলেও তার কিছু আচরণ আগে থেকেই সন্দেহজনক লাগত। তবে কেউই ভাবেননি এমন নৃশংসতার ক্ষমতা তার আছে।

সাবে কুন্নাহার নামে এক প্রতিবেশী বলেন, নিজের দুই মেয়ে আছে তার। অন্যের ৩ বছরের শিশুর সঙ্গে কীভাবে এমন করতে পারে!

বাকলিয়া থানার ওসি মো. সোলাইমান বলেন, বিক্ষুব্ধ জনতা মনিরকে তাদের হাতে ছেড়ে দিতে বলেছিল। কিছু কিছু জনতাকে বুঝিয়ে আমরা সরায় দিই। কিন্তু কিছু বিক্ষুব্ধ মানুষ পুলিশ ও যানবাহনের ওপর হামলা করেছে। মনিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের হাতে আটক মনির শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তাকে ‘শয়তানে পেয়ে বসেছিল’ বলে সে দাবি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *