আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ হামলায় হামাসের সামরিক প্রধানসহ নিহত ৭, আহত ৪৫

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

১৬ মে, ২০২৬

গাজা সিটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল। এই হামলায় তারা হামাস কমান্ডার ইজ আদ-দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যার দাবি করেছে । যুদ্ধবিরতি লংঘণ গাজা সিটির পশ্চিমে চালানো এই হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত এবং ৪৫ জন আহত হয়েছেন। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও বিবিসি

তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, আল-মুতাজ নামে পরিচিত গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে দুটি ভিন্ন দিক থেকে একযোগে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় এবং এরপর সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়া একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও গাজায় ইসরাইলের চালানো সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে এটি একটি। হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডের এই কমান্ডারের নিহত হওয়ার দাবি হামাস এখন পর্যন্ত নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি।

গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ওই বহুতল ভবনে বিমান হামলার পর সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আহতদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ভবনটি থেকে চারটি লাশ এবং আহত লোকজনকে বের করে আনা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একটি সূত্রের তথ্যমতে, ঘটনাস্থল থেকে একটি গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় দ্বিতীয় বিমান হামলায় সেটিতে থাকা তিন ব্যক্তি নিহত হন।

ইসরাইলের বিমান হামলার পর এলাকাটিতে ইসরাইলের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রথম হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাদ্দাদকে ওই গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রটি আরো জানায়, বেসামরিক পোশাকে থাকা হামাসের সশস্ত্র সদস্যরা একজন গুরুতর আহত ব্যক্তিকে একটি পার্শ্ববর্তী প্রবেশপথ দিয়ে বের করে গাড়িতে তোলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আবাসিক ভবনটি থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরে গাড়িটিতে হামলা করা হয়।

ইসরাইলের একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হাদ্দাদকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবে এর পরও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। হামাস বারবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনেছে।

অন্যদিকে ইসরাইল সরকারের দাবি, হামাস সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করার অধিকার তাদের রয়েছে।

এদিকে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং এই পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপগুলো এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র গত জানুয়ারি মাসে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল, যার অধীনে গাজার শাসনভার একটি অন্তর্বর্তী টেকনোক্র্যাট প্রশাসনের হাতে যাওয়ার এবং অঞ্চলটির নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্গঠনের কথা ছিল। তবে নিরস্ত্রীকরণসংক্রান্ত আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে হামাস পুনরায় তাদের পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় করেছে এবং নিজেদের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করছে বলে মনে হচ্ছে।

ইসরাইলি পক্ষ থেকে তাকে ‘৭ অক্টোবরে ইসরাইলের অভ্যন্তরে হামাসের সামরিক অভিযান চালানোর অন্যতম পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু ও কাৎজ বলেন, হাদ্দাদ ‘হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজা উপত্যকাকে নিরস্ত্রীকরণ করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন চুক্তিটি বাস্তবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।’

তারা আরো বলেন, ‘যারা ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আমরা জোরালো ও নিষ্পত্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখব।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার মাধ্যমে দুই বছরব্যাপী গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যাতে প্রায় ১ হাজার ২০০ লোক নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। এর জবাবে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল।

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে এ পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৪৪ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ৮৫৭ জন নিহত হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *