আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের পদক্ষেপ বন্ধের উদ্যোগ সিনেটের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

০৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ বন্ধ করতে গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটে একটি প্রস্তাব পাস করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অবশ্য ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সংকটাপন্ন দেশটিতে মার্কিন তদারকি বছরের পর বছর চলতে পারে। সূত্র:রয়টার্স

যুদ্ধক্ষমতা–সংক্রান্ত এ প্রস্তাব (ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন) নিয়ে আলোচনার পক্ষে ৫২ ও বিপক্ষে ৪৭ জন সিনেটর ভোট দিয়েছেন। ট্রাম্পের নিজের রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

গতকাল নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বছর ধরে ভেনেজুয়েলাকে তদারকি এবং দেশটির তেলের রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

একই সঙ্গে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুমকি থেকে সরে এসেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। কলম্বিয়ার বামপন্থী নেতা প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে ট্রাম্প আগে ‘অসুস্থ মানুষ’ বলে অভিহিত করলেও এখন তাকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র কত দিন ভেনেজুয়েলা তদারক করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সময়ই তা বলে দেবে।’ নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক জানতে চান—এটি কি তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছর হবে কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলব আরও দীর্ঘ সময়।’

গত শনিবার শেষ রাতে ভেনেজুয়েলায় বিতর্কিত সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাসের সেফ হোম থেকে তুলে নিউইয়র্কে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্প এখন বলছেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলাকে অত্যন্ত লাভজনকভাবে পুনর্গঠন করব।’

ট্রাম্প আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সরকারের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের সম্পর্ক ‘খুব ভালো’ যাচ্ছে।

দেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়া মাদুরোর দীর্ঘদিনের অনুগত। তিনি মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি
ভেনেজুয়েলার শীর্ষ আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ গতকাল জানিয়েছেন, এদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি ও ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

রদ্রিগেজ বলেন, এই মুক্তি দেশটির রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এবং এটি একটি শান্তির নিদর্শন। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছে এবং অন্য কোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নয়।

শীর্ষ বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর আন্দোলনসহ অন্যান্য বিরোধী দল ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিল।

স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’-এর হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে ৮৬৩ জন রাজবন্দী রয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকারকর্মী, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকেরা রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *