আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

ইরানে বিক্ষোভ অব্যাহত: ইন্টারনেট–বিভ্রাট, গ্রেপ্তার কয়েকজন

ইরানে বিক্ষোভের দৃশ্য। ছবি: এক্সিওস

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

০৩ জানুয়ারি, ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান সপ্তাহব্যাপি বিক্ষোভের মধ্যে ইরানিরা আবার ইন্টারনেট–বিভ্রাটের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ছাড়া, দেশটির সর্বোচ্চ নেতার তরফে ‘বিদেশি নাশকতা’র ব্যাপারে সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পাল্টা বিক্ষোভ–সমাবেশের আয়োজন করছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র:আল-জাজিরা

গত বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা বাসাবাড়ির সংযোগে ও মোবাইল ইন্টারনেটে মাঝেমধ্যে বিভ্রাটের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈশ্বিক ইন্টারনেট অবকাঠামো ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার-এর গতকাল শনিবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে গত কয়েক দিনের তুলনায় গড় ইন্টারনেট ট্রাফিকের পরিমাণ কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ।

এর আগের দফায় বিক্ষোভ চলাকালেও ইরানি কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন অথবা ধীরগতি করে দিয়েছিল। ফলে ইরানিরা শুধু স্থানীয় ‘ইন্ট্রানেট’ (অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক) ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছিলেন। এরও আগে গত জুনের মাঝামাঝি ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বাধলে টানা কয়েকদিন ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

https://90ba49c694871b99821a693a3c39e5f8.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.html গত রোববার তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ব্যবসায়ী ও দোকানিদের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

চলমান বিক্ষোভের মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি ইরান সরকার। তবে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত রোববার ইরান সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় একটি সাইবার হামলা প্রতিহত করেছে। তার দাবি, এ হামলার কারণেই ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইডথ সীমিত হয়ে থাকতে পারে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পশ্চিম ইরানের হামেদান শহরের এক তরুণ ব্যবসায়ী রয়েছেন। ওই শহরে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র বিক্ষোভ চলছে এবং সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

হামেদানের আঞ্চলিক গভর্নরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপপ্রধান হামজেহ আমরাই গতকাল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যু ‘সন্দেহজনক’। ইরানি কর্তৃপক্ষকে গণমাধ্যমে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে ‘শত্রুরা’ এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

এদিকে তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোর্তেজা হায়দারি গতকাল ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার পেছনে ‘শত্রুপক্ষ’ জড়িত। তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত’ অন্য এক ব্যক্তি নিজের হাতে থাকা গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো বলেছে, গতকাল কেন্দ্রীয় ইলাম প্রদেশের মালেকশাহি এলাকায় সশস্ত্র ও মুখোশধারী ব্যক্তিদের হামলায় ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি)-এর একজন ‘প্রবীণ সদস্য’ নিহত হয়েছেন। আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ওই শহরে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।

দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় লোরেস্তান প্রদেশে গত কয়েক দিন ধরে একাধিক বিক্ষোভ চলার খবর নিশ্চিত করেছে সরকারি কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রগুলো। আইআরজিসির প্রাদেশিক শাখা গতকাল এক বিবৃতিতে জানায়, খোররামাবাদ শহর থেকে ‘সাম্প্রতিক দাঙ্গার তিন প্রধান নেতাকে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে চোখ বাঁধা বা মুখ ঝাপসা করা বেশ কয়েকজন ইরানি নাগরিকের কথিত ‘স্বীকারোক্তি’ প্রচার করা হয়েছে। সেখানে তাঁরা দাবি করেছেন, তাঁরা সশস্ত্র ছিলেন কিংবা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য বিদেশি এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

ইতিমধ্যে, গতকাল এক ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি চলমান পরিস্থিতির জন্য বিদেশি প্রভাবকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘দাঙ্গাকারীদের অবশ্যই উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে।’

ইরানি বিক্ষোভকারীরা নিহত হলে তাঁদের ‘উদ্ধারে এগিয়ে আসার’ ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এমন মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে কথার লড়াই শুরু হয়। এরপরই খামেনির পক্ষ থেকে এ কড়া বার্তা এল।

গতকাল বিকেলে এক বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) নির্লজ্জের মতো নারী ও শিশুদের ওপর বোমা ফেলছে এবং গণহত্যা চালাচ্ছে। অথচ আমাদের বলছে যে আমরা যেন কাউকে আঘাত না করি।’ গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে মার্কিন সমর্থনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন। গাজায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *