আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র-চীন অসাধারণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে ট্রাম্পের আশাবাদ

এপেক সম্মেলনের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সুশানে ট্রাম্প শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আল-জাজিরা
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি২৪ডটকম
৩১ অক্টোবর, ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অসাধারণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ছয় বছর পর এটাই দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। তারা এমন এক সময়ে এ বৈঠক করেন, যখন বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
ট্রাম্প বলেন, এটা আমার জন্য বড় সম্মানের বিষয়। আমি মনে করি, আমাদের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য এক অসাধারণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং আপনাকে আমাদের সঙ্গে পেয়ে আমি সম্মানিত। তিনি শি জিনপিংকে এক মহান দেশের মহান নেতা হিসেবে প্রশংসা করে বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি। আরও কিছু বিষয়ে একমত হবো।
ট্রাম্প বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এটি হবে দীর্ঘস্থায়ী এক অসাধারণ সম্পর্ক। হোয়াইট হাউসের এক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট শি-এর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেন, যদিও দুই দেশ সব বিষয়ে একমত নয়, তবুও তারা সহযোগী ও বন্ধু হতে পারে। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বড় দু’টি দেশ হিসেবে যৌথভাবে দায়িত্ব নিতে পারে এবং আমাদের দুই দেশের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের মঙ্গলের জন্য আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে পারে। দুই দেশের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, তারা পরস্পরের উদ্বেগ মোকাবিলায় একটি সমঝোতা কাঠামোতে পৌঁঁছেছেন।
ট্রাম্পও এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ বৈঠকের ফলাফল বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আলোচনায় বাণিজ্য বিরোধ, প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষত বিরল খনিজ পদার্থে প্রাধান্য পায়- যা স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন তৈরির জন্য অপরিহার্য। বর্তমানে চীন এই খনিজের বৈশ্বিক সরবরাহে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সম্প্রতি তারা যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়ায় রপ্তানি সীমাবদ্ধতা আরও বাড়িয়েছে। দুই নেতা সর্বশেষ মুখোমুখি বৈঠক করেছিলেন ২০১৯ সালে জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের সময়। তখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক।
শি জিনপিং সেই বৈঠকে বলেছিলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের ভিত্তি পারস্পরিক স্বার্থ ও ‘উইন-উইন’ সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। তিনি জোর দিয়েছিলেন, মতপার্থক্য সংলাপ ও সমতার ভিত্তিতে সমাধান করা উচিত। ট্রাম্পও তখন একমত হয়ে বলেন, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে বিরোধ রয়েছে তা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সামলাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র চীনা রপ্তানির ওপর কোনো অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে না।
