আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হিশাম সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

২৫ এপ্রিল, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।

এই ঘটনায় লিমন ও বৃষ্টির রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যাটারি (শারীরিক হামলা), জোরপূর্বক আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যুর খবর গোপন রাখা এবং লাশ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ শিক্ষার্থী জামিল লিমনের  লাশ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হাওয়ার্ডফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নাহিদা বৃষ্টির লাশ  এখনও উদ্ধার করা করা সম্ভব হয়নি। তাদের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহ তাদেরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যাটি ছিল হিশামের পূর্বপরিকল্পিত। 

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, হিশাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা করেন। এরপরই অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এই ঘাতক। তবে বলা হচ্ছে, গ্রেপ্তার হিশাম আবুঘারবিয়েহ সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এখন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। 

জানা গেছে, ২০২৩ সালের মে মাসে মারধর এবং একই বছরের সেপ্টেম্বরে মারধর ও জনশূন্য একটি বাড়িতে চুরির অভিযোগে বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল হিশাম আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে। এছাড়াও নিজের ভাইকে মারধরের কারণে মামলা হয়েছিল। এর ফলে আদালত তাকে পরিবারের সদস্যদের থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। 

জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি যখন (১৭ এপ্রিল) নিখোঁজ হন, তখন তদন্ত চলাকালীন পুলিশ হিশামকে জেরা করেন। কিন্তু মুখ খুলছে না সে। এতে গোয়েন্দাদের সন্দেহ বাড়ে, এক পর্যায়ে পুলিশ তার বাড়িতে হানা দেয়। তখন হিশাম নিজেকে ঘরের ভেতর ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখে। পরে বিশেষ ট্যাকটিক্যাল টিম, সোয়াট টিম, ড্রোন, রোবট ও আলোচকদের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

শনিবার হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানান, হিশামের বিরুদ্ধে লিমনের লাশ সরানো, তথ্য গোপন, প্রমাণ নষ্ট এবং সবশেষে দুই শিক্ষার্থীকেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও নাহিদা বৃস্টির লাশ  এখনো নাহলেও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত যে তাকেও হত্যা করা হয়েছে।

নিহত জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি দুজনই মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। লিমন জিওগ্রাফি এবং বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। তাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু সারাদেশে যেমন তোলপাড় তৈরি করেছে; একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত হিশামকে বর্তমানে বিনা জামিনে কারাগারে রাখা হয়েছে এবং আগামী ২৮ এপ্রিল তার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *