আদানির চুক্তি নিয়ে চার মন্ত্রীর বৈঠক
নিজস্ব প্রতিবেদক
এনভিবিডি24ডটকম
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসার তৃতীয় দিনের মাথায় বহুল আলোচিত আদানি চুক্তি পর্যালোচনা করতে চার মন্ত্রীকে নিয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে বৃহস্পতিবার। সেখানে চুক্তি বাতিল করার ব্যাপারে কয়েকজন মতামত দিলেও বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়।
সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে তার দপ্তরে এই বৈঠক হয়। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম এবং বিদ্যুৎ খাত নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখনো আদানির চুক্তির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সপ্তাহে একটা কিছু হতে পারে। আইনমন্ত্রীও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, আদানির চুক্তি নিয়ে প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ আছে। তাই এই চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এটি যেহেতু আন্তর্জাতিক চুক্তি, তাই হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। তিনি বলেন, আদানির চুক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রের সার্বভৌম গ্যারান্টি দিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ সরকার।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, এই সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাই দেশের স্বার্থ সংরক্ষণে আদানির চুক্তি খতিয়ে দেখবে সরকার।
তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার তৃতীয় দিনে কেন আদানি চুক্তি নিয়ে হঠাৎ করে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হলো সে ব্যাপারে কেউ কিছু জানাতে রাজি হননি। জানা গেছে, আদানির চুক্তিতে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় কমিটি এর প্রতিবেদনে বলেছে, আদানি চুক্তিতে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এই চুক্তির পরমুহূর্তে তৎকালীন বিদ্যুৎ সচিব আহমেদ কায়কাউস বিদেশের অ্যাকাউন্টে কয়েক মিলিয়ন ডলার ঘুস নিয়েছেন। তার প্রমাণ জাতীয় কমিটির কাছে আছে।
কমিটির রিপোর্টে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশে। কিন্তু কোনো ধরনের কথা ছাড়াই হুট করে এটি ভারতের ঝাড়খণ্ডে বসানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া কয়লার দাম, ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াও নানা বিষয় নিয়ে প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে ভারতের আদানির বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, আদানির এক কর্মকর্তার বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তার সঙ্গে ঘুস লেনদেনের পরোক্ষ প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় কমিটি এবং আদানি কীভাবে পুরো চুক্তি নিজের মতো করে নিয়েছে তারও কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
জাতীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আদানির সঙ্গে চুক্তির সময়ে (২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ থেকে ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯) সাবেক বিদ্যুৎ সচিব এবং আদানি চুক্তির সমঝোতা কমিটির প্রধান আহমেদ কায়কাউসের সঙ্গে দেশে-বিদেশে আদানির কর্মকর্তারা একান্তে দেখা করেছেন। এমনকি আহমেদ কায়কাউসের (পরবর্তীতে সাবেক মুখ্য সচিব) বিদেশের অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। জাতীয় কমিটি বলছে, আদানির ব্যাপারে মূল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আহমেদ কায়কাউস এবং পিডিবির কয়েক কর্মকর্তা। ওই সময়ে আদানি চুক্তির সঙ্গে পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, পিজিসিবির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম কিবরিয়া এবং পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর

