সর্বশেষসারাদেশ

চট্টগ্রামে মাঠে ছিল বিএনপির ‘না’ গণভোটে প্রচারণা, জিতল হ্যাঁ

মফস্বল ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিভিন্ন আসনে মাঠের প্রচারণা ও ব্যালটের ফলাফলের মধ্যে দেখা গেছে ভিন্নধর্মী চিত্র। বিএনপির নেতাকর্মীরা দিনভর ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালালেও অনেক আসনে ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১৩ ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

বিএনপির এক প্রভাবশালী জেলা নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এলাকা, বাজার ও গ্রাম-গঞ্জে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়েছে। সাধারণ ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে ‘হ্যাঁ’ ভোট গণতন্ত্রকে বিকৃত করছে। তবে ফলাফলে দেখা গেছে, সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি।

ভোটারদের একাংশ জানান, মাঠে নেতাদের সক্রিয়তা থাকলেও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অনেকেই নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে ছবি শেয়ার করে দেখিয়েছেন—প্রার্থীকে সমর্থন করলেও গণভোটে ‘না’ দিয়েছেন, আবার কোথাও ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রবাহ বেশি ছিল।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের এক ভোটার মোহাম্মদ শাহিন বলেন, প্রথমে ‘না’ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও কেন্দ্রে গিয়ে বিভ্রান্তি ও প্রভাবের পরিবেশ দেখেছেন। শেষ পর্যন্ত ‘হ্যাঁ’ ভোটের চাপই বেশি ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের ভোটার নূরুল আমিন জানান, বিএনপি নেতারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যাই বেশি।

বিভিন্ন আসনের ফলাফল সংক্ষেপ

চট্টগ্রামের অধিকাংশ আসনেই বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের ফল ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই): বিএনপির নুরুল আমিন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত। ‘হ্যাঁ’ ১,১৮,১৯৮ এবং ‘না’ ৮৮,৪৯০।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): সরওয়ার আলমগীর জয়ী। ‘হ্যাঁ’ ১,১৫,২৮৯; ‘না’ ৮৮,১০৩।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ): মোস্তফা কামাল পাশা বিজয়ী; এখানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড): আসলাম চৌধুরীর ফল স্থগিত; ‘হ্যাঁ’ জয়ী।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী): ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জয়ী। ‘হ্যাঁ’ ১,২০,১৮২; ‘না’ ৮৫,৬২২।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিজয়ী; ‘হ্যাঁ’ জয়ী।

চট্টগ্রাম-৭: হুম্মাম কাদের চৌধুরী জয়ী। ‘হ্যাঁ’ ৯৭,১৮৫; ‘না’ ৬৭,৩৭৮।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া): মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জয়ী। ‘হ্যাঁ’ ৯৩,১৯১; ‘না’ ৭৪,২৪৫।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী): সাঈদ আল নোমান জয়ী। ‘হ্যাঁ’ ১,৩২,১০০; ‘না’ ৭১,৩৩৯।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা): আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জয়ী। ‘হ্যাঁ’ ১,২৮,৮৯৮; ‘না’ ৬৮,০৭০।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া): মো. এনামুল হক জয়ী। ‘হ্যাঁ’ ১,২৬,৮১৪; ‘না’ ৫৭,৩১৩।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী): সরওয়ার জামাল নিজাম জয়ী; এখানে ‘না’ ১,২৪,৬২৯ এবং ‘হ্যাঁ’ ৮০,৫৮০।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক): জসিম উদ্দীন আহমেদ ১,০২৬ ভোটে জয়ী; ‘হ্যাঁ’ জয়ী।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া): জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী জয়ী; ‘হ্যাঁ’ জয়ী।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): দাঁড়িপাল্লার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ৯৩,১৬৭ ভোট পান। ধানের শীষের মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পরাজিত। এখানে ‘হ্যাঁ’ ১,৩৬,৮৪০; ‘না’ ৮৯,৩২৩।

মাঠের প্রচার ও ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের এই বৈপরীত্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে, দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোটাররা অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে নির্বাচনি প্রচার দৃশ্যমান প্রভাব থাকলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রবাহ অনেক আসনে থামানো যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *