অর্থনীতিসর্বশেষ

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা চুক্তি আজ

মফস্বল ডেস্ক

এনভিবিডি২৪ডটকম

১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ রোববার দুপুরের আগেই ঢাকায় মন্ত্রণালয় ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হবে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি—তারা এই চুক্তির ব্যাপারে এখনো কিছু জানেন না। পিপিপি অথরিটির ব্যবস্থাপনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সবকিছু করা হচ্ছে।

এদিকে বন্দরে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বন্দরের বিএনপি সমর্থিত শ্রমিক কর্মচারীরা। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষই অনড় অবস্থানে রয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে গতকাল শনিবার সকাল থেকে বন্দরের ইয়ার্ডে কাজ বন্ধ রেখেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

এর বিপরীতে কোন কোন শ্রমিক-কর্মচারী সরকারের সিদ্ধান্ত ও আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছে তার তালিকা তৈরি করতে শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্র বলছে, এনসিটি বিদেশিদের হাতে হস্তান্তরের চূড়ান্ত কাজ চলছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের আগেই এনসিটিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে বুঝে দেওয়া হতে পারে। এই লক্ষ্যে সব কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি সবচেয়ে লাভজনক টার্মিনাল হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে টার্মিনালটির আয়। গত বছরও রেকর্ড আয় হয়েছে। আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি, লাভজনক টার্মিনালটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে রাষ্ট্র। বিপুল অঙ্কের ডলার বিদেশে চলে যাবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্লোবাল টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড তার সব আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে বহুগুণে। সেক্ষেত্রে ভাড়া হিসেবে যে টাকা আয় হবে তাতে অক্ষুণ্ণ থাকবে জাতীয় স্বার্থ।

বন্দরে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, এনসিটি বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল থেকে আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। বন্দরের সর্বস্তরের শ্রমিক কর্মচারী শান্তিপূর্ণভাবে দেশবিরোধী এই উদ্যোগের প্রতিবাদ করছে। বন্দরে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এর জন্য যতদিন প্রয়োজন আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র পরিচালক প্রশাসন ওমর ফারুখ জানান, চুক্তির বিষয়টি পিপিপি অথরিটি আর সরকারের নীতিনির্ধারকরা তদারকি করছেন। আমরা এ বিষয়ে খুব একটা জানি না। কিন্তু সরকারী এই সিদ্ধান্তকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে একটি পক্ষ বন্দরকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হতে দেবে না। গতকাল থেকে কে কে সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে অবস্থান নিয়েছে তা খুঁজে বের করা হচ্ছে। এছাড়া তাদের কারণে দেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটি নিরূপণেও কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চার কর্মচারীর বদলি-পদায়ন

এদিকে শ্রমিকদের টানা ধর্মঘটের জেরে বন্দরের চার কর্মচারীকে বদলি-পদায়নের আদেশ জারি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। গতকাল শনিবার বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পারসোনেল অফিসারের দপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

বদলি হওয়া চার কর্মচারী হলেন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির, নৌ বিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার (প্রথম শ্রেণি) মো. ইব্রাহিম খোকন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের ব্যয় মূলধন শাখার উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম এবং প্রকৌশল বিভাগের মো. ফরিদুর রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *