আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা, শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

১১ জানুয়ারি, ২০২৬

ইরানের বিক্ষোভের নামে সরকারী অফিস, গাড়ী ও মসজিদে অগ্নিসংযোগকারীদেরকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে দেশটিতে ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। বিক্ষোভে যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে, তাদেরকে মৃত্যুদণ্ডদেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারিদেওয়া হয়েছে।সূত্র : এএফপি

গতকাল শনিবার ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে প্রদান করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, “সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী সশস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ‘মোহারেব’ (আল্লাহর শত্রু) বলে ঘোষণা করছে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র। ‘মোহারেব’-দের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।”

ইরানের সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী কিংবা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান গ্রহণ করে— তাহলে ওই গোষ্ঠীর বা সংগঠনের সব সদস্যকে মোহারেব বা আল্লাহর শত্রু বলে ঘোষণা করে। ইরানের সংবিধানে আল্লাহর শত্রুদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। বিক্ষোভরত সন্ত্রাসীরা দেশটিতে হত্যা ও জ্বালাও-পোড়া চালাচ্ছে। ইরানের শত্রু ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে সন্ত্রাস সৃষ্টিরত বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী ও জনগণ সরকারের পক্ষে রাস্তায় নেমে এসেছে। দেশটিতে এমন সংকটের মধ্যে হামলা চালানোর পায়তারা করছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।

এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।

জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ।

এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।

এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর এলিট শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে মাঠে  নামানো হয়েছে।

শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *