সিডনির সৈকতে হামলা: ভুয় ‘বীর’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি
সিডনির সৈকতে হামলার সময় বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়া ‘বীর’ আহমদ আল-আহমদ। ছবি মালয়নিউজ
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে ইহুদি উৎসবে গুলির ঘটনায় হতাহতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ভুল ও ভুয়া তথ্যের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে একজন ব্যাক্তি বন্দুকধারীকে নিরস্ত্র করে প্রশংসায় ভাসা এক ‘বীরের’ পরিচয় নিয়ে ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট ‘গ্রোকের’ ভুল তথ্য দেওয়ার ঘটনা আলোচনায় উঠে এসেছে। সূত্র: দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড
ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার সন্ধ্যায়। সিডনির বন্ডি সৈকতে ইহুদিদের হানুক্কেহ উৎসবে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১৫ জনকে হত্যা করেন বাবা ও ছেলে সাজিদ আকরাম ও নাভিদ আকরাম। পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত হন ৫০ বছর বয়সী সাজিদ। আর ২৪ বছরের নাভিদ পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে আছেন। সাজিদ আকরাম ভারতের হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে নেট মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা ভুল আর ভুয়া খবর। বলা হচ্ছে, ‘ব্রেকিং’ কোনো ঘটনার সময় এআই ব্যবস্থা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে মিথ্যা প্রচারকে আরও বাড়িয়ে তোলার বিষয়ে থাকা উদ্বেগের সর্বশেষ ঢেউ এটি।
সিডনির এ ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী আহমদ আল আহমদ নামের এক ব্যক্তি বন্দুকধারীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেন। হামলাকারীকে নিরস্ত্র করে ‘বীর’ বনে যান তিনি। যদিও নিজেও হাত ও বাহুতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এখন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কিন্তু এআই চ্যাটবট গ্রোকে অন্য একজনকে ‘এ ঘটনার নায়ক’ হিসেবে দেখানো হয়। ভুয়া একটি সংবাদে বলা হয়েছে, হামলাকারীকে নিরস্ত্র করা ওই ‘নায়কের’ নাম ‘এডওয়ার্ড ক্র্যাবট্রি’। বয়স ৪৭ বছর। তিনি পেশায় আইটি বিশেষজ্ঞ। এমনকি সংবাদটিতে ‘হাসপাতালে আহত অবস্থায় শুয়ে থাকা’ ভুয়া ‘এডওয়ার্ডের’ বানোয়াট মন্তব্য প্রকাশ করা হয়।
‘দ্য ডেইলিএইউএস.ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি ওয়েবসাইট থেকে ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল। রোববারই আইসল্যান্ডে এ ওয়েবসাইট নিবন্ধন করা হয়েছে। জানা গেছে, যুব সংবাদ ওয়েবসাইট ‘দ্য ডেইলি এইউএস’–এর সঙ্গে এই ওয়েবসাইটের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সিডনিতে জন্ম নেওয়া সাইবার নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ ও ‘বাগক্রাউডের’ প্রতিষ্ঠাতা ক্যাসি এলিসের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি থাকে। হোয়াইট হাউস ও অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে পরামর্শ দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য, দুঃখজনক ও আবেগময় একটি ঘটনা। এটা লাখো মানুষের মনোভাবকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে পারে।’
এলিসের মতে, এমন ঘটনার (হামলা) পর যখন চারপাশে ‘ধোঁয়াশাপূর্ণ’ পরিস্থিতি থাকে, মানুষ নানা কিছু জানার জন্য বেশ উদ্গ্রীব থাকেন, ঠিক তখনই ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রচুর সুযোগ তৈরি হয়।
গত রোববার ও সোমবার আহমদ আল-আহমেকে নিয়ে একের পর এক ভুয়া তথ্য দিয়েছে গ্রোক। এতে ব্যবহারকারীরা যখন আহমদের বন্দুকধারীর সঙ্গে লড়াইয়ের ভিডিওটি চ্যাটবটকে দেখান, তখন সেটি দাবি করে, ফুটেজটি ‘একজন লোকের পামগাছে ওঠার একটি পুরোনো ভাইরাল ভিডিও’।

