আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

ম্প ভেনেজুয়েলায় ওপর অবৈধ ঔপনিবেশিক চাপ  বাড়াচ্ছেন: মাদুরো

ট্রাম্প ও মাদুরো। (ফাইল ছবি)

নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
৩০ নভেম্বর, ২০২৫

ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ বাড়িয়েই চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই চাপের মুখেও অনড় অবস্থানে রয়েছে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ লাতিন আমেরিকার দেশটি। গত শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলা ও দেশটির আশপাশের আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ বিবেচিত হবে। কারাকাস এর তীব্র নিন্দা জানায়। পাল্টা জবাবে কারাকাস জানায়, ট্রাম্পের মন্তব্য তাদের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক হুমকি এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তারা কোনো বিদেশি নির্দেশ বা হুমকি মেনে নেবে না। তাদের আকাশসীমার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

শনিবার সকালে ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘সব বিমান সংস্থা, পাইলট, মাদক ব্যবসায়ী ও মানব পাচারকারীর উদ্দেশে বলছি, দয়া করে ভেনেজুয়েলার ওপরের এবং চারপাশের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ বলে বিবেচনা করুন।’

কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তারা মাদক পাচার মোকাবিলার অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, মাদুরোকে অবৈধভাবে ক্ষমতা থেকে অপসারণের চেষ্টার ভিত্তি তৈরি করছে ওয়াশিংটন।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কয়েক মাস ধরে চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় গোপন সিআইএ অভিযান চালানোর অনুমোদনও দিয়েছেন।

এ সপ্তাহে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগির স্থল অভিযান শুরু করবে। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন।

২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরো বলেছেন, ট্রাম্প তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে চান এবং ভেনেজুয়েলার জনগণ ও সামরিক বাহিনী এমন যে কোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকটি জাহাজে প্রাণঘাতী বোমা হামলাও চালিয়েছে তারা। হামলায় অন্তত ৮০জন নিহত হয়েছেন। এটিকে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

গত আগস্টে মাদুরোকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এটি তার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ঘোষিত আগের পুরস্কারের অঙ্কের দ্বিগুণ। চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে যে তারা ‘কার্টেল দে লস সোলেস’কে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ সংগঠনের সঙ্গে মাদুরোর সংশ্লিষ্টতা আছে।

এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন। শুক্রবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে ট্রাম্প মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই নেতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য একটি বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *