১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকাসহ সারাদেশে ৩ বার ভূমিকম্প

প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
এনভিবিডি24ডটকম
২৮ নভেম্বর, ২০২৫
মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকাসহ তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যদিও কম্পনগুলোর মাত্রা ছিল মৃদু ও মাঝারি, তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার মধ্যরাত ৩টার পর থেকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে প্রায় ১৩ ঘণ্টার মধ্যে এই কম্পনগুলো অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনগুলোর মাত্রা ছিল মাঝারি বা হালকা।
এর মধ্যে প্রথম ভূমিকম্প অনুভূত হয় বুধবার মধ্যরাতে। রাত ৩টা ২৯ মিনিটে টেকনাফ থেকে ১১৮ কিলোমিটার দূরে ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এ ভূমিকম্পে কেঁপেছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ শহর।
ভূকম্পনবিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, টেকনাফে খুব অল্প ঝাঁকুনি দেওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ এটি টের পাননি।
ভলকানো ডিসকভারি বঙ্গোপসাগরের ভূমিকম্পের উৎপত্তির গভীরতার তথ্য জানাতে না পারলেও ইএমএসসি বলেছে, এটি মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃস্টি হয়েছিল।
এরপর রাত ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪। এটি মৃদু ভূমিকম্প হওয়ায় অনেকেই টের পাননি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, গবুধবার দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে ৩ দশমিক ৪ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মনিপুরে। এরপর গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৃতীয় কম্পনটি অনুভূত হয়। যার মাত্রা ছিল ৩.৬।
গতকাল বিকেলে ঢাকায় ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয় ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায়। ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে এ কম্পন অনুভূত হয়। তবে এতে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, গত ২১ নভেম্বর সকালে ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে ঢাকাসহ সারাদেশ কেঁপে ওঠে। এ ঘটনায় শিশুসহ ১০ জন নিহত হন এবং ছয় শতাধিক আহত হন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭।
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়া কি সম্ভব?
বাংলাদেশে এখন যে আতঙ্ক বা গুজব ছড়িয়েছে, ২০২৩ সালে এমনটি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তানে। ওই বছর তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে আঘাত হেনেছিল শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের ভূমিকম্পের পর গুজব ছড়ানো হয় ১৫ দিনের মধ্যে ভারত-পাকিস্তানে একইরকম ভূমিকম্প আঘাত হানবে।
তখন বিশেষজ্ঞরা জানান, কবে, কোথায় আর কোন সময় ভূমিকম্প আঘাত হানবে সেটি পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানী ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে পারেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পন প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ প্রফেসর মাইকেল ব্রুনো ওই সময় বলেন, “এ মুহূর্তে এমন কোনো বিজ্ঞান, ম্যাজিক বা জাদুবিদ্যা নেই যেটি ভূমিকম্প আঘাত হানার নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বাভাস দিতে পারবে। বিজ্ঞানীদের ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময় বলতে পারার ক্ষমতা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য সব পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু কেউ সফল হননি এবং বিশ্বাসযোগ্য পূর্বাভাস দিতে পারেননি।”
