রাজনীতিসর্বশেষ

সরকার সব দলকে খুশি করলওে জনগণকে ফাঁকি দিয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

এনভিবিডি24ডটকম

১৫ নভেম্বর, ২০২৫

জুলাই জাতীয় সনদ আদেশের অনেক বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে বলে উল্লেখ করে সেগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পাটি(এনসিপি)। দলটি বলছে, জুলাই সনদ আদেশ এমনভাবে জারি করা হয়েছে যে, এটিকে ক্ষমতাবাদনরা নিজেদের মতো ব্যাখা করার সুযোগ রেখেছে।

শুক্রবার বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় র্কাযালয়ে এক সংবাদ সম্মলেনে দলটরি এ অবস্থান তুলে ধরেন দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসনে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের অনেকগুলো বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছিলাম, সরকার অস্পষ্টতা দূর করে অত্যন্ত সুনর্দিষ্টিভাবে জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা উল্লেখ করা হবে।  কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এমন অস্পষ্টতা  রয়ে গেছে যে এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন গণভোটকে কয়েকটি ভাগেভাগ করা হয়েছে যেখানে সংস্কারের সব বিষয়কে একভাবে না দেখে সব বিষয় আলাদা হিসেবে দেখা হয়েছে। কিছু সংস্কারকে কমগুরুত্বর্পূণ করে রাজনৈতিক দলগুলোর বিবেচনাধীন করা হয়েছে।

আখতার বলেন, নানা পক্ষ নোট অব ডিসেন্টসহ (ভিন্নমত) জুলাই সনদ দেখতে চান। তারা ক্ষমতা পেলে বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী নিজেদের মতো করে নোট অব ডিসেন্টকে প্রধান করে তোলার সুযোগ থাকবে। ফলে গণভোটের মাধ্যমে সুরাহা হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার জুলাই সনদে বর্ণিত  প্রক্রয়িা অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কিভাবে হবে, এখানে নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না কি থাকবে না, সে ব্যাপারে আমরা স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই।

তিনি বলেন, গণভোটে অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে কোনগুলোকে বোঝানো হয়েছে? এখানে বাক্যরে মধ্যে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। ঐকমত্য কমিশনে আমরা সবাই দুদককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তররে কথা বলেছি, এটওি কি অর্ন্তভুক্ত থাকবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

গণভোটের অনেক বিষয়  রাজনৈতিক দলগুলোর মর্জির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আখতার হোসনে বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আস্থা ভোট ও অর্থনৈতিক বিল  বাদে বাকগুলোর সংশোধনীর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছিলাম কিন্তু এটিকে এমনভাবে রাখা হলো যে, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মতো অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ অবারিত রাখা হয়েছে।

আখতার হোসনে আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারবেন কি না- যদি গণভোটের মাধ্যমে জনগণ তার মতামত জানিয়ে দেয়, তাহলে কেন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মতো সংস্কার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।  

তিনি বলেন, আমরা জুলাই সনদের র্পূণ বাস্তবায়ন চেয়েছিলাম। কন্তিু এই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে গুরুত্বের বিচার ও অগুরুত্বের বিচার মধ্যে দিয়ে আংশকি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগে সুনর্দিষ্টি সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যর্থ  হলে স্বয়ংক্রয়িভাবে সংবধিানরে আওতায় চলে আসার বিষয় ছিল। বাস্তবায়ন আদেশের ১৮০দিনের কথা বলা হয়েছে ঠিকেই কিন্তু তারা যদি র্ব্যথও হয়, তাহলে তার ফলাফল কী হবে, এগুলো সংবিধানে অর্ন্তভুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে অস্পষ্টতা এখানে রয়ে গেছে।

এনসপিরি সদস্য সচিব বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে আদশে জারি করা হয়েছে তা ক্ষমতাবানরা নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করতে পারেন। সরকার দ্রুত এই অস্পষ্টতা দূর করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।

সংবাদ সম্মলেনে এনসপিরি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অর্ন্তর্বতী সরকার জুলাই সনদ দায়বদ্ধতা দেখায়নি। সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মাধ্যমে সরকার সকল রাজনতৈকি দলকে খুশি করলেও জনগণকে ফাঁকি দিয়েছে।এই আদশেরে মাধ্যমে মৌলিক সংস্কারের দিকে যাওয়া যাবে না। আমরা বাহাততরের ফ্যাসিবাদী কাঠামো দূর করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এই আদেশের মিধ্যদিয়েআমরা বাহাত্তরের সংবিধানের পথেই হাটছি। এক হাসিনা যাওয়ার পর আরেক হাসিনার আসার প্রস্ততি চলছে।

তিনি বলেন, গণভোটে ৪টি হ্যাঁ ভোটের প্যাকেজে অষ্পষ্টতা রয়েছে।  এগুলো সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। এরপরই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে এনসিপি। এই সনদ আইনি ভিত্তি পেলেও নৈতিক ভিত্তি পায়নি।সদিচ্ছা থাকলেও সরকারদুইটি দলের কারণে ভাল কিছু করতে পারছে না।

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়াকে ভোটব্যাংকের ইস্যু বানাবনে না। এমনটা করলে জনগণ আপনাদরে প্রত্যাখ্যান করবে।

সংবাদ সম্মলেনে আরো উপস্থতি ছলিনে এনসিপির সিনিয়র  যুগ্ম সদস্যসচবি ডা. তাসনমি জারা, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমনি প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *