আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, কয়েক ডজন নিহত

নিউজ ডেস্ক
এনভিটোয়েন্টিফোর ডটকম
১৫ অক্টোবর, ২০২৫

পাকিস্তান-আফগানিস্তানের অস্থিতিশীল সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। বুধবার ভোরের দিকের এই সংঘাতে এক ডজনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। গত সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর নতুন এই সহিংসতায় দুই দেশের সীমান্তের ভঙ্গুর শান্তি আবারও ভেঙ্গে গেছে। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।
২০২১ সালে তালেবান কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর দুই দেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মাঝে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই হয়েছে গত সপ্তাহে। যদিও ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিতর্কিত সীমান্তজুড়ে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মাঝে প্রায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আফগান তালেবান বলেছে, বুধবার ভোরের দিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী স্পিন বোলদাক জেলায় হামলা চালিয়েছে। এতে ২০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়া পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে রাতভর সংঘর্ষে আফগানিস্তানের আরও প্রায় ৩০ জন বেসামরিক নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।
পাকিস্তান বলেছে, সীমান্তের অপর প্রান্তে স্পিন বোলদাকের বিপরীতে অবস্থিত চামান জেলায় তালেবান বাহিনীর হামলায় পাকিস্তানের চার বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী ওরাকজাই জেলায় পৃথক ঘটনায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষে দেশটির আধা-সামরিক বাহিনীর অন্তত ছয় সদস্য নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।
দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ওই সংঘর্ষে ৯ জঙ্গিও নিহত হয়েছেন। দেশটিতে গত সপ্তাহে এক জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ১১ সদস্য নিহত হন। ওরাকজাইয়ের সংঘর্ষ নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে কাবুল বলেছে, পাকিস্তান স্পিন বোলদাকে হামলা চালিয়েছে। যদিও কাবুলের এই অভিযোগকে অসত্য ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।
পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি হামলা দমনে তালেবান প্রশাসনকে ইসলামাবাদ পদক্ষেপ নেওয়ার আহŸান জানানোর পর সাবেক দুই মিত্র দেশের মধ্যে সা¤প্রতিক উত্তেজনার শুরু হয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে বলেছে, পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গিরা আফগানিস্তানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, তালেবানের অভিযোগ, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র; ভুল তথ্য ছড়িয়ে সীমান্ত উত্তেজনায় উসকানি এবং জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যদের আশ্রয় দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্ব দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *