আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি: ইসরাইলি হামলারমধ্যে শুরু হয়েছে আনন্দ-উদযাপন

নিউজ ডেস্ক
এনভি টোয়েন্টিফোর ডটকম
০৯ অক্টোবর, ২০২৫

বৃহস্পতিবার ভোরে সারা গাজার বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে আসেন। যুদ্ধবিরতি চুক্তি উদযাপন করতে তারা সেখানে সমবেত হন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ২০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম দফার ব্যাপারে হামাস ও ইসরাইলের সম্মত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এতে গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা বা যুদ্ধবিরতি, হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তি দান, বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দান এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। সূত্র: প্যালেস্টানিয়ান ক্রনিকল।
গাজা সিটি, খান ইউনুস ও দেইর আল-বালাসহ সারা গাজায় এই চুক্তি উদযাপন করা হয়। হামাস চুক্তিটিকে ‘জাতীয় সাফল্য’ বলে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি মধ্যস্থতাকারীদের কাছে বন্দিদের একটি তালিকা হস্তান্তর করেছে।
চুক্তির বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক দিক
চুক্তিটি বাস্তবায়নের প্রস্ততি তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হয়েছে। রোববার বা সোমবার হামাসের হাতে আটক সব ইসরাইলি জীবিত জিম্মি ও লাশগুলোকে হস্তান্তর করা হবে। হোসাইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ইসরাইল সেনা প্রত্যাহার সম্পূর্ণ করতে ২৪ ঘন্টা লাগতে পারে।
দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে. তাদেরকে হামলা চালানোর পরিবর্তে কাছাকাছি রণরেখায় পুণ:মোতায়েনের প্রস্ততি নিতে বলা হয়েছে। জিম্মিদের মুক্তির কার্যক্রমের জন্য তাদেরকে প্রস্তনি নিতে বলা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্যারান্টি দিয়েছেন যে, ইসরাইলকে পুণরায় হামলা শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে ইসরাইলি বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন স্বীকার করেছেন যে চুক্তিকে কিছু ‘বেদনাদায়ক’ বিষয় রয়েছে। তিনি হামাসকে কোনভাবে পুণরায় অস্ত্রসজ্জিত হতে দেওয়া হবে না।
চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলার আন্তর্জাতিক দাবি
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং অবিলম্বে মানবিক কার্যক্রম শুরুর প;ত্শেপ নেওয়ার আহŸান জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এন্থনিও গুতেরেস চুক্তি পুরোপুরি মেনে চলতে সব পক্ষের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন। তিনি সব জিম্মি-বন্দির মর্যাদাপূর্ণ মুক্তি বিনিময়, অবিলম্বে অবাধে মানবিক ত্রাণ সামগ্রী ও জরুরী প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ শুরু করার আহŸান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার নেতৃত্ববৃন্দ তাদের বিবৃতিতে ওই একই কথা প্রতিধ্বনি শোনা গেছে।
যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণার পর তা উদযাপনের মধ্যে ইসরাইল বিমান ও কামান হামলা অব্যাহত ছিল আজ সকাল পর্যন্তু। গাজা সিটির পশ্চিমের এলাকা, আল-শাতি উদ্বাস্তু শিবির ও আল-হায়া এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া শুজাইয়া, আল তুফফাহ ও আল দারাজ এলাকায় ব্যাপক কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।
চরম মানবিক সংকট
দুই বছর ব্যাপী ইসরাইলের ভয়াবহ হামলা ও গণহত্যার শিকার হয়ে গাজায় ৬৭ হাজার ১৮৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ৬৯ হাজার ৮৪১ জন। নিহতদের ২০ হাজারেরও বেশি শিশু।
সর্বশেষ দফা ইসরাইলি সর্বাত্মক হামলায় গাজা সিটির কয়েক লাখ মানুষ বাস্তচ্যূত হয়েছেন। বর্তমানে শহরটিতে দুই থেকে তিন লাখ মানুষ বাস করছেন।
উপরন্তু ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশ করতে না দিয়ে ইসরাইলের সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *