জাতীয়সর্বশেষ

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী মুসা: এসআই জাকির হাসপাতালে এসে রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভির সার্ভার নিয়ে যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

এনভিবিডি24ডটকম

1১ জুন, ২০২৬

জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তায়িম হত্যা মামলায় ২৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন যাত্রাবাড়ীর কাজলা অনাবিল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আবু মুসা আহমেদ।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দিতে মুসা বলেন, আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ২৯ বছর। জুলাই বিপ্লবের সময় আমি যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা এলাকায় অনাবিল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত ছিলাম। ১৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই কাজলা ও আশপাশ এলাকা থেকে অসংখ্য গুলিবিদ্ধ রোগী আমাদের হাসপাতালে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এরমধ্যে ১৯ জুলাই ও ২০ জুলাই সর্বাধিক সংখ্যক গুলিবিদ্ধ রোগী আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য আসে। আমাদের নির্ধারিত সংখ্যক বেড পূরণ হয়ে যাওয়ায় রিসিপশন-এমনকি ডাক্তারের চেম্বারেও গুলিবিদ্ধ ও আহত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমরা গুলিবিদ্ধ রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করে দিয়েছিলাম।

জবানবন্দি আবু মুসা আরো বলেন, ২৩ জুলাই আমরা যখন হাসপাতালে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছিলাম। তখন বিকাল বেলায় সিভিল ড্রেসে যাত্রাবাড়ী থানার কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্য হাসপাতালে এসে, রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভির সার্ভার নিয়ে যায়। এই রেজিস্টার খাতায় আমরা কত সংখ্যক আহত রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি, উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করেছি-তার বর্ণনা দেওয়া ছিল।

আমি আগত পুলিশ সদস্যদের পরিচয় জানতে চাইলে, তারা তাদের পরিচয় প্রকাশ করেন নাই। ওই পুলিশ সদস্যদের মুখে মাস্ক পরা ছিল। ওইদিন পুলিশ সদস্যরা রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভি সার্ভারসহ আমাকে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে যায়। থানায় আমাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আমি থানার ২য় তলা থেকে নীচে নামার পর কর্মরত সেন্ট্রিকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি, থানার অফিসার এসআই জাকির ও মামুন আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছিল। তারা আমার কাছে কতজন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিয়েছি জানতে চেয়েছিল এবং বলেছিল আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিলে হাসপাতালের ক্ষতি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *