আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান: নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যাও

নিউজ ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

10 জুন, ২০২৬  

দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হুমকি জবাবহীন থাকবে না এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। সূত্র: পার্স টুডে

বুধবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে থাকবে না।’

একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যাও।’ আরাগচির ভাষায়, ‘পারস্য উপসাগরের ইতিহাসে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীদের ভয়াবহ পরিণতির বহু অধ্যায় রয়েছে।’

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছিল, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের কয়েকটি স্থানে মঙ্গলবার রাতে মার্কিন হামলা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কেশম দ্বীপ, জাস্ক ও সিরিক এলাকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

হামলার ঠিক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন এ্যাপাচে সামরিক হেলিকপ্টার ইরানি ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর তারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে।

এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিশ্চিত করেন যে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, হেলিকপ্টারটি ইরান ভূপাতিত করেছে এবং এ ঘটনার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অবশ্যই প্রয়োজন’।

তবে ইরানের সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনী এ ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের যথাযথ প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

মার্কিন হামলার আগেও আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের আকাশসীমা, স্থলসীমা ও জলসীমা লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভূখণ্ডের আশপাশে অবস্থানরত বিদেশি বাহিনী নিজেদের ভুল, দুর্ঘটনা অথবা সংঘাতের মধ্যে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’

পরিস্থিতির উত্তরণে বিদেশি বাহিনীকে দ্রুত অঞ্চল ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘শত্রুভাবাপন্ন সামরিক উপস্থিতির জন্য এই অঞ্চল কখনোই অনুকূল পরিবেশ হবে না। ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বিদেশি বাহিনীর দ্রুত সরে যাওয়া।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *