দিল্লিতে পাঁচতলা ভবনধসে নিহত ২, আটকা পড়েছে বহু
নিউজ ডেস্ক
এনভিবিডি24ডটকম
৩১ মে, ২০২৬
ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলে সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে অন্তত দুই জন মারা গেছেন। ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শতাধিক আটকেপড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যায় সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে অবস্থিত ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়ে। এতে পুরো স্থাপনাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়ে ভাঙা কংক্রিটের স্ল্যাব, লোহার কাঠামো ও স্তম্ভের ধ্বংসাবশেষ। খবর এনডিটিভি।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত। আপাতদৃষ্টিতে আর কেউ আটকা পড়ে আছে বলে মনে হচ্ছে না, তবে অনুসন্ধান অভিযান এখনও চলছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।’
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ভবনটিতে একটি মেডিকেল কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে ও অফিস পরিচালিত হচ্ছিল। এছাড়া তৃতীয় তলায় নির্মাণকাজও চলছিল। সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে ভবনটি ধসে পড়ে।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ভবনটি পাশের একটি অস্থায়ী টিনশেড ক্যান্টিনের ওপর ভেঙে পড়ে। ওই সময় সেখানে শিক্ষার্থীরা রাতের খাবার খাচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধসের পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা যাচ্ছিল।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা শুধু ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। চারদিকে ধুলোর বিশাল মেঘ তৈরি হয়েছিল। পরে বুঝতে পারি, পাশের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
আহতদের একজন নীলম যাদব, যিনি সম্প্রতি বিদেশ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন। তিনি সাকেতের একটি মেডিকেল একাডেমিতে স্নাতকোত্তর ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তার বাবা বলবন্ত যাদব বলেন, ‘ঘটনার সময় ক্যান্টিনে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। আমার মেয়ের পায়ে ভাঙন ধরেছে এবং বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।’
স্থানীয়দের দাবি, ভবনটিতে নিয়মিত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও অফিসকর্মীর যাতায়াত ছিল।
১০০ থেকে ১৫০ জন আটকা পড়ার আশঙ্কা
ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ থেকে ১৫০ জন পর্যন্ত আটকা পড়ে থাকতে পারে।

