জাতীয়সর্বশেষ

চট্ট্রামের জঙ্গল সলিমপুরে কারাগার স্থাপন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মফস্বল ডেস্ক

এনভিবিডি24ডটকম

৩১ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে সরকার কারাগার স্থাপন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এখানে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না। 

রোববার (৩১ মে) সকালে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি আশপাশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিকল্পিত যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তাদের উচ্ছেদ করা হবে। এই আলীনগর, জঙ্গল সলিমপুর এলাকা আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদের এলাকা বা অভয়ারণ্য থাকবে না। এর আশপাশে বেতুয়া ও চা বাগান নামে দুটি পাহাড়ি এলাকা রয়েছে। এসব এলাকাতেও সন্ত্রাসীদের আনাগোনার তথ্য আমরা পেয়েছি। সেখান থেকেও তাদের উচ্ছেদ করা হবে।

তিনি বলেন, সারা দেশে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া এবং চাঁদাবাজি- এই চারটি অপরাধকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে। পরিকল্পিত যৌথ ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে এসব অপরাধ নির্মূলে কাজ করা হবে। বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

১৮৬৭ সালের জুয়া আইনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন অনলাইন ও অফলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন ধরনের বেটিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান আইনি কাঠামো দিয়ে সেগুলো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তাই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এ বিষয়ে আইন আনার চেষ্টা করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান আনা হবে। বর্তমানে হাজার হাজার মাদক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হলে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।

এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং মোকাবিলায় কিছু আইনি সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমানে কিশোর অপরাধীদের জন্য বিদ্যমান আইনের কিছু সুযোগ-সুবিধা অপব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে অনেকেই গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। তাই এ ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, র‌্যাব এবং এলজিইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *