শাপলা গণহত্যার বিচার ত্বরান্বিত কর: জেডিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক
এনভিবিডি24ডটকম
০৬ মে, ২০২৬
রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে শাপলা চত্বরের গণহত্যা ও ব্লগার হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি জানিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। একই সঙ্গে শাপলা গণহত্যার প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য সিপিবি, বাসদ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টকে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে শাপলা গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত “সাদা পাঞ্জাবির মিছিল”-এর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ওপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ড এবং সে সময় সংঘটিত ব্লগার হত্যাকাণ্ড—উভয় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর করা প্রয়োজন। নাঈম আহমাদ বলেন, শাপলা গণহত্যার প্রেক্ষাপট তৈরিতে বামপন্থী কিছু সংগঠনের ভূমিকা ছিল এবং এ জন্য তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে শাহবাগে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে তোলা হয়েছিল, যা তার ভাষ্য অনুযায়ী তৎকালীন সরকারের শাসন দীর্ঘায়িত করার একটি চেষ্টা ছিল। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো সংবেদনশীল ইস্যু যুক্ত থাকায় অনেক সাধারণ মানুষ এতে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে এটি ইসলামবিদ্বেষ ও ফ্যাসিবাদপন্থী আন্দোলনে রূপ নেয়।
নাঈম আহমাদ বলেন, এই প্রেক্ষাপটে ধর্মপ্রাণ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী মানুষ শাপলা চত্বরে সমবেত হন। কিন্তু সরকার কঠোর অভিযান চালিয়ে তা দমন করে। তিনি বলেন, সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে।
গণজাগরণ মঞ্চের তৎকালীন মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার সম্পর্কে জেডিপি আহ্বায়ক বলেন, তিনি “গুপ্ত ছাত্রলীগ” হিসেবে কাজ করতেন এবং আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন এ বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন বলেও দাবি করেন। তার অভিযোগ, হাসিনার জোটসঙ্গী ছাড়াও বামপন্থী কয়েকটি সংগঠন ওই সময় এ ধারার রাজনীতিতে নগ্নভাবে সহযোগিতা করেছিল, যার ফলে বাংলাদেশে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা শেখ হাসিনার পক্ষে সহজ হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে তিনি শাপলার ধারাবাহিকতা বলেও উল্লেখ করেন।

